ভেড়া পালন- সুযোগ ও সম্ভাবনা

ভেড়া বিশ্ব কৃষি অর্থনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চীন, অষ্ট্রেলিয়া, ভারত এবং ইরান পৃথিবীর নেতৃত্ব স্থানীয় ভেড়া উৎপাদনকারী দেশ। উল এবং ভেড়ার মাংশের স্থানীয় এবং আর্ন্তজাতিক রপ্তানী বাজারের চাহিদার বড় অংশ এ সব দেশগুলো পূরণ করে।

নিউজিল্যান্ডে ভেড়ার সংখ্যা উল্লেখিত দেশগুলোর তুলনায় কম হলেও ভেড়া হতে তৈরি বিভিন্ন (sheep product) পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটা বড় অংশ অর্জন করে থাকে।

ভেড়ার মাংশ খাওয়াতে তেমন কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। ভেড়ার মাংশের প্রাপ্যতার বিষয়টি’ই হলো আসল বিষয়। ভেড়ার মাংশ সহজ প্রাপ্য হলে মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করবে। আমাদের দেশে ভেড়ার কোন বাণিজ্যিক খামার নেই। যে সকল ভেড়া আমরা দেখতে পায় তা একজন ক্ষুদ্র কৃষক বা খামারীর পারিবারিকভাবে পালিত ভেড়া। এসব ভেড়া বিজ্ঞানভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনার আলোকে পালন করা হয় না।

মাঠে ঘাটে বনে-বাদারে ছেড়ে পালন করা হয় বলে ভেড়ার বড় বড় পশমে বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা লেগে থাকা অবস্থাটাই আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়। আমরা জানি ছাগল সর্বদা শুকনা স্থানে থাকতে, শুকনা ও পরিষ্কার খাদ্য খেতে পছন্দ করে।

এমন কি মেঘ ডাকার শব্দ শুনেই ছাগল শুকনা স্থানে যাওয়ার জন্য চেঁচাতে থাকে। এটা ছাগলের প্রজাতিগত বা বংশগত (genetically) আচরণ বা অভ্যাস যা পরিবর্তনীয় নয়। এ কারনে ছাগলের দেহ পরিষ্কার ও চকচকে থাকে। অপরদিকে ভেড়া বৃষ্টি বাদল, কাদা-পানির মধ্যে চরে খায়। তাছাড়া ভেড়ার পশম বড় ও কোকড়ানো হওয়ার কারনে সহজেই ময়লা লেগে যায়।

ভেড়ার মাংশ খাওয়ার সময় ভেড়ার নোংরা শরীর চোখে ভাসে বিধায় অরুচি তৈরি হয়। পারিবারিকভাবে পালন করা হয় এবং পশম বিক্রয়ের তেমন সুযোগ তৈরি না হওয়ায় আমাদের দেশের ভেড়া পালনকারীগন ভেড়ার পশম কাটেন না।

যদি বছরে দুই বার ভেড়ার পশম কাটা হয়, সপ্তাহে অন্তত: একবার গোসল করানো হয় এবং ডান্ডি ব্রাশ বা বডি ব্রাশ ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা ভালো হয় তাহলে ভেড়ার শরীরও ছাগলের মতো চকচকে দেখাবে।

জনশ্রুতি আছে বাজারে ভেড়ার মাংশ ছাগলের মাংশ হিসাবে বিক্রি হয়। পুষ্টিমান এবং স্বাদের বিচারে ভেড়ার মাংশ এবং ছাগলের মাংশে কোন তফাৎ নেই বলে আমরা খাওয়ার সময় বুঝতেও পারি না ছাগলের মাংশ না ভেড়ার মাংশ খাওয়া হলো। তাই আমরা ভেড়ার মাংশ স্বনামে অর্থাৎ ভেড়ার মাংশ হিসাবে খেতে চায়।

জমির স্বল্পতা, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদা পূরণ, দারিদ্র বিমোচন তথা আত্বকর্মূসংস্থান সৃষ্টিতে গবাদিপশু পালন একটা উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করে আসছে। খুব কম সময়ে পাল বড় হয় বলে দেশের বেকার যুবক-যুবতী, কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি ও দারিদ্র বিমোচনের সহজ হাতিয়ার হতে পারে ভেড়া পালন।

ভেড়া পালনে মানুষকে উদ্বুদ্ধকরন দেশি ভেড়ার উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর হতে পাঁচ বছর মেয়াদি “সমাজভিত্তিক ও বাণিজ্যিক খামারে দেশি ভেড়ার উন্নয়ন ও সংরক্ষণ (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প চালু রয়েছে। দেশের ৪৮০টি উপজেলা এই প্রকল্পের কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।

সিনথেটিক ফেব্রিক্সের কারনে যদিও বর্তমান সময়ে ভেড়াজাত (sheep product) পণ্যের চাহিদা কিছু কম, তথাপি প্রাণিসম্পদের অন্যান্য উপাদনের তুলনায় একটি সুনিদিষ্ট অর্থনৈতিক সুবিধা রয়েছে। গরু এবং মুরগির বাণিজ্যিক খামারের তুলনায় ভেড়া পালনের জন্য বাসস্থানের জন্য বেশি খরচ হয় না। একটা গরু পালনের জন্য যে পরিমান জায়গার দরকার হয় সে পরিমান জায়গায় ৬ টি ভেড়া পালন করা যায়। অন্যান্য প্রাণি যে সমস্ত ঘাস স্পর্শই করে না এমন ঘাস ভেড়া খায় এমনকি ক্ষতিকর ও বিষাক্ত ঘাসও ভেড়া খায় এবং ভেড়া হতে খুব কম সময়ে অনেক বাচ্চা পাওয়া যায়। ভেড়া পালনে উৎপাদন খরচ অন্যান্য প্রাণি পালনের চেয়ে কম হওয়ায় সমান বিনিয়োগে একজন উৎপাদনকারী বা পালনকারী বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারেনে। তবে পারিবারিক খামারে ভেড়া পালন বেশি লাভজনক।
উপসংহারঃআমাদের দেশে এখন অনেককেই ভেড়ার কথা বললেই গাড়ল কে বোঝায় এটা আমার মতে ভুল ধারনা ছাড়া আর কিছু না। এখন অনেক উন্নতমানের দ্রুত উৎপাদনশীল জাত আছে।খামারি কে তার সক্ষমতা ও পরিবেশ এর উপর ভিত্তি করে জাত বাছাই করতে হবে।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *