দুগ্ধ খামার

দুগ্ধ খামার স্থাপনে করণীয়

দুগ্ধ খামার স্থাপন বর্তমান সময়ের একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। অধীক উৎপাদনশীল গাভী গরু পালনের মাধ্যমে কম খরচে দুধ ও বাছুর উৎপাদন করা সম্ভব হয়। দুগ্ধ খামার স্থাপনে করনীয় ও বিবেচ্য দিক নিম্নে তুলেধরা হলো।

অধীক উৎপাদনশীল গাভী নির্বাচন

দুগ্ধ খামার এর জন্য অধীক উৎপাদনশীল গাভী নির্বাচণে নিচের বিষয়সমূহ বিবেচনা করতে হবে।

  1. মায়ের দুধ উৎপাদনের ইতিহাস ভলো হতে হবে।
  2. গাভীর ওলান আকারে বড় ও দুধের শিরাগুলো মোটা হতে হবে।
  3. গায়ের চামরা মসৃণ, পাতলা ও ঢিলেঢালা হতে হবে।
  4. গাভীর গায়ের হাড় মোটা কিন্তু বেশি মাংস থাকা চলবে না।
  5. পাঁজরের হাড়গুলো সুস্পষ্ট দেখা যাবে।

বাংলাদেশে পালিত দুধেল গাভীর জাত

দুগ্ধ খামার এর জন্য হলস্টিয়ান-ফ্রিজিয়ান, জার্সি, লাল সিন্ধি, শাহিওয়াল, চট্টগ্রামের লাল গরু, পাবনা ভ্যারাইটি ইত্যাদি বাংলাদেশে দুধ উৎপাদনে পালন করা হয়। নিচে একটি টেবিলের সাহায্যে দুধ উৎপাদন ক্ষমতা ও ওজন তুলেধরা হলো।

গাভী গরুর জাতদৈহিক ওজনদুধ উৎপাদন/দিন
হলস্টিয়ান-ফ্রিজিয়ান৫০০-৬০০ কেজি২০-২৫ লিটার
জার্সি৩৫০-৫০০ কেজি৮-১৬ লিটার
লাল সিন্ধি৩০০-৩৫০ কেজি৬-১৮ লিটার
শাহিওয়াল২৭২-৪০৯ কেজি৭-১৫ লিটার
রেড চিটাগং২২৫-২৫০ কেজি১০-১২ লিটার
পাবনা ভ্যারাইটি১৫০-২০০ কেজি৬-১০ লিটার
সূত্র: পশু চিকিৎসা বিদ্যা, প্র. ড. মো. আব্দুস সামাদ।

গাভী গরুর বাসস্থান ব্যস্থাপণা

দুগ্ধ খামারে গাভী গরুর ব্যবস্থাপনা হতে হবে আধুনিক ও বিজ্ঞান সম্মত।

  1. ভূমি থেকে উঁচু ও শুষ্ক স্থানে খামার স্থাপন করতে হবে।
  2. পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবসাথা থাকতে হবে।
  3. পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস চলাচলেনর ব্যবস্থা থাকতে হবে।
  4. গাভী পালনের ঘর পূর্ব-পশ্চিম লম্বা হওয়া ভালো। এতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করতে পারে।

গাভী গরুর ঘরের মাপ

গোয়াল ঘরের ধরনদাঁড়ানোর জায়গাখাবার পাত্রপয়নিষ্কাশন নালা
এক সারি বিশিষ্ট গোয়াল ঘরদৈর্ঘ্য- ৫.৫ ফুট
প্রস্থ- ৩.৫ ফুট
২ ফিট১ ফুট চওড়া
দুই সারিবিশিষ্ট (মুখোমুখি)দৈর্ঘ্য- ৫.৫ ফুট
প্রস্থ- ৩.৫ ফুট
২ ফিটদুই সারির মাঝে ৪ ফিট
দুই সারিবিশিষ্ট (বিপরীত মুখি)দৈর্ঘ্য- ৫.৫ ফুট
প্রস্থ- ৩.৫ ফুট
২ ফিটদুই সারির মাঝে ৮ ফিট

গাভী গরুর খাদ্য ব্যবস্থাপনা

গবাদিপশু পালনে মোট খরচের সিংহভাগই খাদ্য ও পুষ্টির সাথে জড়িত। সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনাখাদ্যের অপচয় রোধকরে ও খরচ কমায়। তাই লাভজনক খামার প্রতিষ্ঠার জন্য গাভীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা হতে হবে যথাযথ। গাভী গরুর খাদ্যে চাহিদা অনুযায়ী প্রোটিন, ফ্যাট, ফাইবার, শক্তি ও ভিটামিন-মিনারেল থাকা প্রয়োজন। গাভীকে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ ও টাটকা পানি পান করাতে হবে।

গাভী গরুর খাদ্য তৈরির ফরমুলা

ফরমুলা- ১

খাদ্য তৈরির উপাদানপরিমান
চাবউলের খুদ২০ কেজি
গমের ভূসি১৫ কেজি
চাউলের কুড়া১৮ কেজি
মসুর ডালের ভূসি২৪ কেজি
তিলের খৈল১৫ কেজি
শুটকি মাছের গুড়া৫ কেজি
খাদ্য লবন০.৫ কেজি
ঝিনুক গুড়া/লাইমস্টেন২ কেজি
ভিটামিন-মিনারেল প্রিমিক্স০.৫ কেজি

ফর্মুরা- ২

খাদ্য তৈরির উপাদানপরিমান
ভুট্টা ভাঙ্গা১৫ কেজি
গমের ভূসি২৩ কেজি
চাউলের কুড়া৩০ কেজি
খেসারি ডালের ভুসি১০ কেজি
সরিষার খৈল১৪ কেজি
শুটকি মাছের গুড়া/ ফিস মিল৫ কেজি
খাবার লবন০.৫ কেজি
লাইমস্টোন২ কেজি
ভিটামিন-মিনারেল০.৫ কেজি

গাভীর দৈহিক ওজনের ১% হারে দানাদার খাদ্য দিতে হবে। দুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রথম ১ লিটার দুধের জন্য ১ কেজি দানাদার খাদ্য ও পরবর্তি প্রতি ২.৫ কেজি দুধের জন্য ১ কেজি হারে দানাদার খাদ্য গাভীকে দিতে হবে। এছাড়াও প্রতিটি গাভীকে ১০-১৫ কেজি কাঁচা ঘাস ও ৩-৪ কেজি শুষ্ক খড় খাওয়াতে হবে।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *