শর্ষেখেতে মৌ চাষ

শর্ষেখেতে মৌ চাষ সমন্বিত চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক ও মৌচাষি উভয়ই

সম্প্রতি “শর্ষেখেতে মৌ চাষ সমন্বিত চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক ও মৌচাষি উভয়ই” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটি প্রাণিসম্পদ ডট কম ওয়েবসাইট/এপের পাঠকের জন্য।

শর্ষেখেত ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। নওগাঁর বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদের ঢেউ। শর্ষেখেতের পাশেই মৌ-বাক্স বসিয়েছেন মৌচাষিরা। পরাগায়নের ফলে এক দিকে শর্ষের উৎপাদন বাড়ছে, অপর দিকে মধু আহরণ করা যাচ্ছে। শুধু মধু থেকেই এ মৌসুমে আয় হতে পারে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। সমন্বিত এই চাষে শর্ষেচাষি ও মৌচাষি—দুই পক্ষ লাভবান হচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১টি উপজেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বেশি শর্ষের চাষ হয়েছে। গত বছর জেলায় শর্ষের আবাদ হয়েছিল ৩৬ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। এসব খেতের পাশে গত শুক্রবার পর্যন্ত ৮ হাজার ২০০টি মৌ–বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এই বাক্স থেকে এবার ১৫০ টন মধু সংগ্রহ করা হবে বলে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ। প্রতি কেজি মধু ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এবার জেলায় শর্ষের ফুল থেকে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার মধু সংগ্রহ হতে পারে।

মান্দা উপজেলার উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মুহাম্মদ শহিদুল্ল্যাহ বলেন, মৌমাছি শর্ষের ফুলে উড়ে উড়ে বসে মধু সংগ্রহ করে। এতে শর্ষে ফুলে সহজে পরাগায়ন ঘটে। তাই শর্ষে খেতের পাশে মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করলে শর্ষের ফলন অন্তত ২০ শতাংশ বাড়ে। পাশাপাশি মৌচাষিরা মধু আহরণ করে লাভবান হন।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকেরা এবার বেশি পরিমাণ জমিতে শর্ষের আবাদ করেছেন। এ ছাড়া গত মৌসুমে শর্ষের ভালো ছিল। চলতি বছর বেশি পরিমাণ জমিতে শর্ষে চাষ হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে, এবার বর্ষায় বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিচু জমিগুলো থেকে এবার আগেই পানি নেমে গেছে। ওই সব জমি বোরো আবাদের জন্য দুই-তিন মাস ধরে ফেলে না রেখে কৃষকেরা সেখানে শর্ষের আবাদ করেছেন। ফসল ঘরে উঠতে সময় লাগে জাত ভেদে ৭০ থেকে ৯০ দিন।

সূত্রটি আরও জানায়, চলতি বছর জেলায় সবচেয়ে বেশি শর্ষে চাষ হয়েছে মান্দা উপজেলায়। মান্দাতে সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ২২ জন মৌমাছি খামারি ৩ হাজার ৮০০টি বাক্স নিয়ে এসেছেন মধু সংগ্রহ করতে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের মৌচাষিরাও মধু সংগ্রহ করছেন।

গতকাল শনিবার নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের জয়বাংলা মোড় এলাকায় মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছোট মল্লুকপুর মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পাশে মহাসড়কসংলগ্ন একটি কলাবাগানে ৪০০টি মৌ-বাক্স স্থাপন করেছেন মৌচাষি আবুল কালাম আজাদ। রাজশাহীর কেশরহাট উপজেলা থেকে তিনি এসেছেন মধু সংগ্রহের জন্য।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১৪ দিন হলো তিনি ওই মাঠে মধু সংগ্রহের জন্য বাক্স বসিয়েছেন। এ পর্যন্ত তিনি ৪০০টি বাক্স থেকে দুবার মধু সংগ্রহ করেছেন। প্রতিবার একটি বাক্স থেকে ৭ থেকে ৮ কেজি মধু পাওয়া গেছে।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *