বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ

শরীয়তপুর জেলায় বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে

দিনদিন শরীয়তপুর জেলায় বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে মধু চাষীর সংখ্যা। মধুর চাহিদা ভালো থাকায় মধু চাষীরা লাভবান হচ্ছে। একই সাথে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।

কালোজিরা, ধনিয়া আর সরিষা ফুলে মৌমাছির পরাগায়নের ফলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ উৎপাদন বাড়ে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত এ মধুর স্বাদ, গন্ধ, রং ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় রপ্তানি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারেও।

এ বছর শরীয়তপুরে ৭৮টি ভ্রাম্যমাণ মৌচাষির দল এসেছে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। এসকল উদ্যোক্তাগণ মধু চাষ করে নিজেরাই সামলম্বী হচ্ছেন না, অবদান রাখছেন দেশের অর্থনীতিতেও। অনেক বেকার যুবকের মৌখামার ঘিরে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে ।

সাতক্ষীরা থেকে মৌ চাষ করতে আসা রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের উৎপাদিত মধু ভারতের ডাবর, এপি, বাংলাদেশের অলওয়েজ, হামদর্দ কিনে নেয়। কিন্তু আমরা মধুর ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না। ন্যায্য মূল্য পেলে আমরা মৌ চাষকে চালিয়ে নিতে পারবো।’

শরীয়তপুরের বিস্ত্রিত মাঠ এখন কালোজিরা আর ধনিয়ার মতো মসলা জাতীয় ফসলে ভরে উঠেছে। মাঠজুড়ে সাদা কালোজিরা বা ধনিয়ার ফুল বাতাসে দোল খাচ্ছে। সেখানে বিচরণ করছে মৌমাছির দল। ফুলে ফুলে বসে করছে মধু আহরণ। ফসলি মাঠের পাশে অস্থায়ীভাবে অবস্থান নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মৌচাষিরা। স্থাপন করেছেন সারি সারি মৌবাক্স।

মৌচাষিরা ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর বাক্সের ফ্রেমগুলো থেকে নিষ্কাশন যন্ত্রের সাহায্যে মধু সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত মধু হাতের স্পর্শ ছাড়াই সম্পূর্ণ মেশিনের সাহায্যে বের করা হয়। এরপর তা মজুত রাখা হয় বিভিন্ন আকারের কনটেইনারে। তারপর মাঠ থেকেই সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন মধু।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শরীয়তপুরে ৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে এবার ধনিয়া ও ৩ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে কালোজিরা চাষ করা হয়েছে। এসব ফসলি মাঠের পাশে ৯ হাজার ৪৪০টি মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এতে ৫৫ টন মধু সংগ্রহ হরা যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যার বাজারমূল্য প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা।

আরো পড়ুন: শর্ষেখেতে মৌ চাষ সমন্বিত চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক ও মৌচাষি উভয়ই


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *